Home Privacy Policy Disclaimer Sitemap Contact About
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

আর কত নির্যাতন হলে থামবে পুরুষ ,সোনাখালীর হামিদা বরগুনা হাসপাতালে

এম.এস রিয়াদ, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :       
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৪৮ আপডেট পোস্ট

“বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর-অর্ধেক তার করিয়াছে নারি, অর্ধেক তার নর”। এ চরণ দুটি কাজী নজরুল ইসলামের “নারী” কবিতার। তবুও যেনো প্রতিদিনই পুরুষ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী। ঘরে স্বামীর কাছে, কর্মক্ষেত্রে কর্তার কাছে। এভাবেই বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলেছে নারী। আর কত নির্যাতনের শিকার হলে থামবে পুরুষ? থামাবে তাদের লোমহর্ষক নির্যাতন?

৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা গ্রামের সবেদ মুসুল্লীর মেয়ে মোসাঃ হামিদা বেগমের (৩০) সাথে প্রায় আঠার বছর পূর্বে বরগুনা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সোনাখালী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আজিজ হাওলাদারের ছেলে মোঃ মাসুদ (৪০) এর সাথে বিবাহ হয়। এ জুটির ঘরে কোল জুড়ে আসে একে একে তিন কন্যা সন্তান। ইতোমধ্যে বড় কন্যা লামিয়াকে বিবাহ দিয়েছে। মেঝ কন্যা মাড়িয়া ৭ম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। ছোট মেয়ে ফারিয়া (মারুফা)। যার বয়স মাত্র পাঁচ বছর।

মাসুদ ও হামিদার বিয়ের পরেই শুরু হয় যৌতুকের এক নাটকীয়তা। শুরু হয় নির্যাতনের নানা ধরণের কৌশল। একাধিকবার সালিস-বৈঠকেও রেহাই পায়নি হামিদা। মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে নেননি কোন আইনি সহায়তা। ঝি এর কাজ করেই নিজের ভরণ-পোষণ যোগান দিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার খান হামিদা। একঘরে থেকেও শ্বাশুরী রেনু পুত্রবধুর সাথে হাড়িভেদে খাচ্ছেন। গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বাজার থেকে সওদা করে বাড়ি ফিরলে ছেলে মাসুদ বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দেয়। স্ত্রী হামিদা দুপুরের রান্না কী করবে স্বামীর কাছে জিজ্ঞেস করলে শুরু হয় নির্যাতনের শেষ ধাপ।

চড়-থাপ্পর আর গরু বাঁধার খুঁটা দিয়ে মারতে মারতে ঘরের সামনে থাকা মাঠে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে মাসুদ। ছাদে দাঁড়িয়ে যার স্বাক্ষী হন আঃ রশিদের ছেলে নান্নু। তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বর্ণনা দিয়েছেন হামিদাকে শারীরিক নির্যাতনের। শেষমেস হামিদার স্থান হয়েছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে। হামিদার বড় বোন ফিরোজা খবর পেয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হামিদা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সরেজমিনে গেলে হামিদার বিপক্ষে স্বাক্ষী দিয়েছে তার বড় মেয়ে লামিয়া ও মাড়িয়া। শ্বাশুরী রেনু ও মেঝ মেয়ে মাড়িয়ার সাথে দেখা হলে বিষয়টি শুনতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন মায়ের দোষের কথা। বড় মেয়ে লামিয়া তার স্বামীর বাড়ি থেকে মোবাইল যোগে ওই একই কথা বলেন। হামিদা কোথায় আছে জানতে চাইলে শ্বাশুরি রেনু বলেন আমরা জানিনা। পরক্ষণেই বলে উঠলেন গতকাল একটু ঝামেলা হইছে। হেরজন্য হাসপাতালে ভর্তি হইছে। হামিদা গুরুতর অসুস্থ। স্যালাইন চলছে। এমন কথা সাংবাদিকদের মুখে শোনার পরে রেনু বলে উঠল ওরম স্যালাইন দেওয়া যায়। স্বামী, শ্বাশুরী ছাড়াও হামিদা নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন চাচাত দেবর ও জা দের বিরুদ্ধেও। অভিযুক্ত স্বামী মাসুদ ও দেবর টিনু, টুকু, সাজেদা ও খাদিজাকে পাওয়া যায়নি।

স্বামী মাসুদ স্থানীয় একটা স্ব-মিলে কাজ করেন। ইনকামের কোন অর্থই স্ত্রী হামিদাকে দেয়না। দেয়না স্ত্রী হিসেবে পাওনা ভরণ-পোষণটুকুও। প্রতিটি শ্বাশুরির মনে রাখা উচিত আমিও একজন নারী, আমিও অন্যের ঘরে, আমার কন্যাও অন্যের ঘরে রয়েছে বা যাবে। “নরককুণ্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?- তারে বল আদি-পাপ নারী নহে,  সে যে নর-শয়তান। এমন মর্মান্তিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হামিদা।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন ধরণের আইনি সহায়তা নেয়নি এবং মামলাও করেননি। তবে আইনি সহায়তা নিয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা স্ত্রী হামিদা।

এই খবর শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন Tmnews71

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved www.tmnews71.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-tmnews71