Home Privacy Policy Disclaimer Sitemap Contact About
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

দেবিদ্বারে মেয়ের জামাইর সহযোগিতায় ছোট ভাইকে হত্যা চেষ্টা।

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৯ আপডেট পোস্ট

কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার রাজামেহার ইউনিয়নের বড়সোনাকান্দা গ্রামে পিতৃ সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

গত ০৯/০২/২১ তারিখ সকালে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বড়সোনাকান্দা গ্রামের মৃত মোশকত আলীর তিন ছেলের মধ্যে নির্যাতনকারী মনিরুল ইসলাম (৬৫) বড়, এবং নির্যাতনের শিকার জসিম উদ্দিন (৫৫) ছোট।

নির্যাতনের শিকার জসিম উদ্দিন জানান,আমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর কাতারে কর্মরত ছিলাম, কিন্তু করোনার কারণে কোম্পানি দেশে পাঠিয়ে দিলে আমি দেশে এসে বেকার হয়ে পরি। এই জন্য দেশে আসার পর থেকেই বড় ভাই মনিরুল ইসলামের দখলে থাকা সব পিতৃ সম্পত্তি বণ্টননামা দলিল করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতো বড় ভাই মনির এবং মেজ ভাই শফিকুল ইসলাম (৬০) কে। কিন্তু মনির এবং শফিক বিভিন্ন অজুহাতে বণ্টননামা দলিল করবে বলে জসিমকে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে বড় দুই ভাই তার সাথে প্রতারণা করে আসছিল। বিভিন্নভাবে হয়রানি হওয়ায় পর জসিম উদ্দিন বর্তমান মেম্বার সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কে বিষয়টি অবহিত করলে এলাকাবাসী গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে উভয়পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা তৈরি করে। কিন্তু কিছুদিন পর মনিরুল ইসলাম এবং শফিকুল ইসলাম তাদের সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কালক্ষেপণ এর মাধ্যমে আবারো জসিমকে হয়রানি করতে থাকে। গ্রাম্য সালিশি তে এলাকাবাসীর দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে দিতে জসিম উদ্দিন দীর্ঘ প্রায় তিন মাস এলাকার মেম্বার সহ গন্যমান্য ব্যাক্তিদের দ্বারস্থ হতে থাকে, এবং জসীম উদ্দীন তার বড় ভাই মনিরুল ইসলামকে গ্রাম্য সালিশের রায় বাস্তবায়ন করার জন্য এবং তার পিতৃ সম্পত্তি তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলতে থাকে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ০৯/০২/২১ তারিখ সকাল বেলা মনিরুল ইসলাম এবং তার ছেলে মেহেদি হাসান হিমেল (২৬) এবং তার মেয়েরা মিলে পরিকল্পিতভাবে জসিম উদ্দিন কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে।

সন্ত্রাসী মনিরের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা জানান, মনিরুল ইসলাম এবং তার ছেলে মেয়েদের আক্রমণের ভয়ে জসিম উদ্দিন তার ঘরের ভেতর দরজা জানালা বন্ধ করে বসে ছিল কিন্তু সন্ত্রাসীরা জসিম উদ্দিনকে মারার জন্য প্রথমে ঘরের দরজা জানালা ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে ঘর থেকে বের করে এনে মনিরুল ইসলাম জসিমের দাড়িতে ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার বুকে পা দিয়ে চাপ দিয়ে ধরলে মনিরের ছেলে এবং মেয়েরা প্রথমে তাকে কুপিয়ে জখম, পরে লাঠি এবং ইট দিয়ে আঘাত করে তার সমস্ত শরীর থেতলে দেয়।

এবং রোড দিয়ে আঘাত করে জসীম উদ্দীনের হাত ভেঙ্গে ফেলে। স্বামীকে বাঁচাতে জসিমের স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে বিবস্ত্র করে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার ওপর নির্যাতন চালায়। জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে মনিরুল ইসলাম এর হাত থেকে বাঁচাতে মহল্লার মানুষ এগিয়ে আসলে মনিরুল ইসলাম তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এই ঘটনায় আহত জসীমউদ্দীনকে প্রথমে দেবিদ্বার সরকারি হসপিটালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে প্রেরণ করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জসিম উদ্দিন এই মুহুর্তে কুমিল্লারএকটি প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় জসিম উদ্দিনের স্ত্রী জোবেদা খাতুন (৩৫) বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে লাইলী নামে একজন আসামী গ্রেপ্তার হয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলামের দ্বিতীয় মেয়ের জামাই রাজামেহার গ্রামের কাশেম মাস্টারের ছেলে বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের বিয়ের পর থেকেই তার শশুরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। যেকোনো তুচ্ছ ঘটনায় জাকির হোসেন এলাকার বখাটে ও সন্ত্রাসী ছেলেদের কে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়িতে এসে বিভিন্ন লোকজনদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। আরো জানা যায়, মনিরুল ইসলাম দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর যাবত এলাকায় বিভিন্ন লোকদেরকে অন্যায় ভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলাবাজ সন্ত্রাসী মনিরুল ইসলাম ও তার জামাতা জাকির হোসেন এর হাত থেকে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবার এবং এলাকাবাসীকে বাঁচাতে প্রশাসন যেন খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এই খবর শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন Tmnews71

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved www.tmnews71.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-tmnews71