Home Privacy Policy Disclaimer Sitemap Contact About
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
গলাচিপায় লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৩০ জনকে জরিমানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নামে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর। জার্মানিতে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক প্রকাশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাসব্যাপী আগস্টের কর্মসূচী ঘোষণা কিংবদন্তি ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৪ মুনিয়ার মৃত্যু: চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নুসরাতের অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত, বলছে পুলিশ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১৮৭ কাল থেকে বন্ধ বাস, ট্রেন-লঞ্চ চলাচল গলাচিপায় নব নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

অটোপাস ও অটোপ্রমোশন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হুমকি ডেকে আনছে নাতো।

এম.এস রিয়াদ, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ৫৬ আপডেট পোস্ট

  করোনা ভাইরাস বিশ্বের বুকে এক আতঙ্কের নাম। দেশে দেশে মানুষের মৃত্যুর মিছিল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে বন্ধ করে দিয়েছে চলার সকল পথ। এতে বিশেষ ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে নিত্য আয়ের মানুষগুলোর। রুজিরোজগারের পথ বন্ধ হওয়ায় নিঃস্ব হয়েছে লাখ লাখ পরিবার। দেশের মূল চালিকাশক্তির এক তৃতীয়াংশ আজও উঠে দাঁড়াতে পারেনি অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে। হয়তো কোন একদিন উঠে দাঁড়ালেও দাঁড়াবেনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।

 

 

দীর্ঘ সময়ের বন্ধে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ধারা। অটোপাস ও অটোপ্রমোশন দেশের নাজুক শিক্ষা ব্যবস্থায় হুমকি ডেকে আনছে কিনা তা নিয়ে সবার মনেই সংশয় কাজ করছে। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’। অথচ সেই দন্ড আজ একটু একটু করে খসে পড়ছে। দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে সকল আয়ের পথ খুলে দেয়া হলেও খোলা হয়নি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবনে হতাশাবোধ করছে।

কেননা শিক্ষক সংকট একটা চিরাচরিত বিষয়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক পদ পূর্ণ নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা মূল পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু জানা থেকে বঞ্চিত। আজ প্রায় দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষা ও ক্লাসে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের সকল শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসমূহ, ব্যাংক-বীমা, শপিং মল, হোটেল-রেস্তোরা, পর্যটন এলাকাগুলোও।

 

এমনকি বিদেশ হতে রপ্তানি করা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সকল ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও এবার খুলছে আর্ন্তজাতিক ফ্লাইটগুলো। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ও সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। খুলে দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল্যি চলা হাইকোর্টের সকল বেঞ্চ। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর ও কর্মক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনার সংক্রমনের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটিও। দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণা করলেও সরকার খুলতে পারেনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ছুটি ফের বাড়বে।

 

কবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। করোনার কারণে গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরিক্ষা না নিয়ে অটোপাস দেওয়া হয়েছে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় এখনও এসএসসি ও এইচএসসিতে পরীক্ষা নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যা বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়ে মার্চে সমাপ্ত হয়ে যায়। ইতোমধ্যে সম্মান শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক বক্তব্যে বলেছেন এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতি মূল্যায়ন করা হবে। এতে করে এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষার পরিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীরাই ভেঙ্গে পড়েছে।

 

তারা বলছে দেশের সকল কর্মকান্ডের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সরকারি সকল দপ্তরসমূহ চলছে। তাহলে স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে বেঁধে দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে সমস্যা কোথায় ভেবে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঊর্দ্ধমুখী হওয়ায় লগডাউনের সিদ্ধান্ত খুবই যৌক্তিক। তবে একই সময়ে সরকারি-আধাসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তকেও যৌক্তিক হিসেবেই ধরা যায়। কারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবচেয়ে সুবিধাভোগী।

 

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে হলে হয়রানির শিকার এবং উৎকোচ দিতে হয় প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। যেখানে বেসরকারি সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা খোলা থাকছে, সে ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের এককভাবে সুবিধা ভোগ করা কোন ভাবেই যৌক্তিক নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নয়তো শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নামতে বাধ্য অচিরেই।

 

এর ফল শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বরং দেশ ও জাতিকে ভোগ করতে হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা গবেষকরা। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নামার আগেই অটোপাশ কিংবা অটোপ্রমোশন না দিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে সরকার। এমন আশা মনে বেঁধে দেশের সকল শিক্ষার্থীরা। লেখকঃ শিক্ষার্থী, বরগুনা সরকারি কলেজ।

এই খবর শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন Tmnews71

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved www.tmnews71.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-tmnews71