Home Privacy Policy Disclaimer Sitemap Contact About
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

বীর উত্তম, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক কি মামাবাড়ির আবদার

নিজেস্ব প্রতিবেদক।
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৪ আপডেট পোস্ট

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও শাহজাহান ওমর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের কোনো এখতিয়ার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সেটাও তাঁর এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মনে করছেন তারা।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও শাহজাহান ওমর এসব কথা বলেন।

হাফিজউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জেড’ ফোর্সের ‘এ’ ও ‘বি’ কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন।শাহজাহান ওমর ছিলেন ৯ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার। দুজনেই বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ‘জামুকার এগুলো কাজ না, জামুকা হলো কে ভাতা পাবেন কে পাবেন না, কে মুক্তিযোদ্ধা, কে মুক্তিযোদ্ধা হবেন না। বীর উত্তম, স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার, সেনাবাহিনীর প্রধান, জেনারেল, প্রেসিডেন্ট … তাঁদের ব্যাপারে এখতিয়ার আছে? হু ইজ জামুকা। কে এদের চেনে। কোথায় জিয়াউর রহমান, কোথায় এগুলো।’

প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই খেতাব নিল কি গেল, কিছু আসে যায় না। তিনি (জিয়াউর রহমান) এখন মৃত। খেতাব নিলেও জিয়াউর রহমান জিয়াউর রহমান থাকবেন। লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে, অনাগত ভবিষ্যতের কাছে তিনি এই দেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রূপেই ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তৎ​কালীন উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না।তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তো বিচার হয়েছে। কই কোনো সাক্ষী, কোনো ব্যক্তি কেউ কী বলেছে যে উনি এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন বা এটা করেছেন।

বর্তমান সরকার দেউলিয়াত্বে শেষ পর্যায় পৌঁছে গেছে, জাতিকে দেওয়ার আর কিছুই নেই উল্লেখ করে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে তাদের (সরকার) কেলেঙ্কারির কথা ফাঁস হচ্ছে। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্য আজ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মতো একজন ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধরনের অলীক মিথ্যা তথ্য জাতির কাছে হাজির করেছে। এটা দুঃখজনক। জিয়াউর রহমান কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। হি ওয়াজ এ ন্যাশনাল হিরো।’

শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, ‘কী কারণে হঠাৎ​ করে জামুকা একটা প্রস্তাব করল, বোধগম্য নয়। জামুকা কে? মুক্তিযুদ্ধের সময় তিন ধরনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটা হচ্ছে মিলিটারি ফোর্স, আরেকটা হলো ফ্রিডম ফাইটার, তিন নম্বর হলো যুদ্ধের শেষ দিকে বিএলএফ নামের একটা সংগঠন করা হয়েছিল, যেটা বাংলা মুজিব বাহিনী। জামুকা হলো যেমন ফ্রিডম ফাইটার তৎ​কালীন ছাত্র-কৃষক-যুব-শ্রমিক যাঁরা যুদ্ধে গেছেন, ট্রেনিং করেছেন, তাঁদের ভাতা, সম্মানী, সুযোগ-সুবিধা কীভাবে অধিকতর দেওয়া যায়—দিস ইজ দ্য জব অব জামুকা। জামুকার কোনো এখতিয়ার নেই মিলিটারি অফিসার যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।’

শাহজাহান ওমর বলেন, ‘বীর উত্তম, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক মামাবাড়ির আবদার না ​কি, ছেলের বাড়ির মোয়া। এটা তো আমরা যুদ্ধ করে অর্জন করেছি। জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেছেন হি ডিকলার ওয়ার এবং নিজে যুদ্ধ করেছেন। জিয়াউর রহমানের কল পেয়ে যুদ্ধে নেমেছি। আমি তিনবার গুলিবিদ্ধ হয়েছি। আমাকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছে। এই খেতাব কেউ দয়ায় দেয়নি। এই খেতাব কেড়ে নেওয়ার আপনারা কে

শাহজাহান ওমর বলেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কয়েক দিন পরে আর কিছু বলবে, তিনি নাগরিকও না । তাতেও জিয়াউর রহমানের কিছু আসে-যায় না, বীর উত্তম নিলেও তাঁর কিছু আসে-যায় না জিয়া ইজ জিয়া, তিনি বাংলাদেশের একাত্তরের সাত কোটি মানুষের অন্তরে গাঁথা, তাঁর অবদান হৃদয়ে গাঁথা।

এই খবর শেয়ার করে আপনার টাইমলাইনে রেখে দিন Tmnews71

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved www.tmnews71.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
raytahost-tmnews71